
বাঙালি জনজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর গ্রামবাংলার রূপ-রস-গন্ধ যার লেখনীতে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল, সেই পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী আজ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক।
জসীমউদ্দীন কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন বাংলার মাটির কণ্ঠস্বর। তার কবিতায় ফুটে উঠেছে চষা ক্ষেত, মেঠো পথ, আর সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের সহজ আখ্যান। ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ কিংবা ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’—তার প্রতিটি সৃষ্টিই বিশ্বসাহিত্যের দরবারে বাংলাকে করেছে গৌরবান্বিত।
কাব্যগ্রন্থ: নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত।
বিখ্যাত কবিতা: 'কবর' (ছাত্রাবস্থাতেই যা পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছিল)।
পুরস্কার: ১৯৬৮ সালে 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার', ১৯৭৬ সালে 'একুশে পদক' এবং মরণোত্তর 'স্বাধীনতা পুরস্কার' লাভ করেন।
তার অমর সৃষ্টি ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে, যা পল্লী জীবনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। লোকসংগীত সংগ্রহ ও গবেষণাতেও কবির অবদান অনস্বীকার্য।
কবির জন্মভিটা ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবে। মিলাদ মাহফিল, কবির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে পল্লীকবিকে স্মরণ করবে ভক্ত ও অনুসারীরা।
"এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।" বাঙালির আবেগের এই মহান রূপকার ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার কবিতা ও লেখনী আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে অম্লান।